মালয়েশিয়াতে অবৈধ হয়ে গেলে কিভাবে নিজেই ট্রাভেল পাস করে দেশে ফিরবেন?


যে কোন ভিসায় এসে যদি মেয়াদ শেষ হয়ে যায় তবে আপনি অবৈধ হিসাবে পরিগনিত হবেন। সে ক্ষেত্রে দেশে ফিরে যেতে আপনাকে যা যা করতে হবে তা নিয়ে আজকের আলোচনা
প্রথমত পাসপোর্ট না থাকলে আপনাকে অবশ্যই জন্মনিবন্ধন ও সদ্য তোলা তিন কপি ছবি ইত্যাদি নিয়ে যেতে হবে হাইকমিশনে। অবশ্যই আগে যাচাই করে নিতে হবে তার জন্মনিবন্ধন অনলাইন করা আছে কিনা। নতুবা, অনলাইন না হয়ে থাকলে হাইকমিশনে গিয়ে ভোগান্তিতে পরতে পারেন।
হাইকমিশনে যাবার আগে যে কোন মে ব্যাংকে BANGLADESH HIGH COMMISSION (A/C no-564427102268)৪৪ রিঙ্গিত জমা দিয়ে ব্যাংক ড্রাফটি হাইকমিশন ফরমের সাথে যুক্ত করে দিতে হবে। সমস্ত কাজ শেষ করে সকাল ১১ টার মধ্যে জমা দিতে পারলে দিনে দিনেই ট্রাভেল পাস করিয়ে নেয়া সম্ভব। ডেলিভারীর সময় প্রার্থীকে সশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে।
দ্বিতীয়ত যাদের পাসপোর্ট আছে তাদের হাইকমিশনে যাবার কোন দরকার নেই।
হাইকমিশনের কাজ শেষ হলে কাটতে হবে বিমানের টিকেট। 
যেদিন টিকেট কাটবেন তার ২ সপ্তাহ পর আপনার ভ্রমন তারিখ কনফার্ম করুন। 
এরপর যেতে হবে পুত্রাজায়া ইমিগ্রেশন।
অনেকে অবৈধ হয়ে গেছেন বলে ইমিগ্রেশনের নাম শুনলেই ভয়ে চমকে উঠেন। আত্মা শুকিয়ে যায়। যে ইমিগ্রেশন আপনাকে এতদিন খুঁজেছে, যে ইমিগ্রেশনের নাম শুনলে জঙ্গলে পালিয়েছেন আজ আপনাকে সেই ইমিগ্রেশনে স্বেচ্ছায় ধরা দিতে হবে। ভয় নেই একদম। নির্ভয়ে যান। কারন আপনি আত্মসমর্পন করছেন। তাই আপনাকে কিছুটা শাস্তি দেয়া হবে। তবে দেশে যাবার সুযোগ দিবে। কি, শাস্তির কথা শুনে আবার ভয় পেলেন? শাস্তি হবে শুধু অর্থদন্ড ও ৫ বছরের ব্ল্যাকলিষ্ট।
পুত্রাজায়া ইমিগ্রেশন অফিসের পাশেই নতুন একটি অফিস রয়েছে। ওখানে কাউকে বললেই দেখিয়ে দিবে। সেখানেই বাংলাদেশীদের জন্য স্থানীয় একটি এজেন্সীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কাজ করার। সে কাউন্টারে সবকিছু জমা দিলে আপনাকে একটা টোকেন দেয়া হবে। সেখানে উল্লেখ থাকবে কবে আবার আসতে বলা হয়েছে। সেদিন আপনার ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেয়া হবে। তারপর খামে একটা লেটার দিবে। সেটা এয়ারপোর্ট ইমিগ্রেশনে জমা দিতে হবে। এভাবেই আপনার দেশে যাবার ব্যবস্থা হয়ে গেল।
খরচ

ট্রাভেল পাস = RM 44
টিকেট = RM 500 ( কম বেশী)
জরিমানা =RM 400

ইমিগ্রেশনে যা যা নিয়ে যেতে হবে
১. ট্রাভেল পাস বা পাসপোর্ট
আসল ও ফটোকপি
২. বিমান টিকেট (পথে যাতে সমস্যা না হয়। প্রমান হবে আপনি দেশে যাচ্ছেন)
৩. কমপক্ষে পকেটে ৫/৬ ‘শ রিঙ্গিত।
এরপর ইমিগ্রেশনের ছাড়পত্র পাবার পর বাকী যে ক’দিন এদেশে আছেন বুক ফুলিয়ে চলুন, কেনাকাটা করুন, ছবি তুলুন। কারন, আপনি এ কয়েকদিনের জন্য বৈধ হলেন। কেউ আপনাকে কিছু বলবে না। আপনি মুক্ত, স্বাধীন।
ইমিগ্রেশন রেইড দিক। আপনার কিছু হবে না। এ’কদিনের জন্য আপনি ১০০% বৈধ। কারন, ইমিগ্রেশনের চিঠি আপনার পকেটে। আপনাকে ১৪ দিনের একটা স্পেশাল পাস দেয়া হয়েছে আপনাকে। অনেক কাজ করেছেন। বাকী এ ক’দিন নিজেকে উপভোগ করুন। হয়তো এটাই আপনার জীবনের শেষ বিদেশ বা মালয়েশিয়া দর্শন। যাবার সময় অন্তত  কিছু স্মৃতি ক্যামেরায় ধরে রাখুন। 

সব অবৈধ শ্রমিক ফেরত পাঠাবে মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ায় সাময়িক বৈধতার জন্য দেওয়া এনফোর্সমেন্ট কার্ড (ই-কার্ড) না থাকলে এবং চাকরিতে পুনর্নিয়োগের যোগ্য না হলে অবৈধ সব বিদেশি শ্রমিককে ফেরত পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন কর্তৃপক্ষের প্রধান মুস্তাফার আলী দেশটির নিউজ পোর্টাল ফ্রি মালয়েশিয়া টুডেকে এ কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে চলমান অভিযানের নামে অভিবাসী শ্রমিকদের হয়রানি করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। তিনি বলেন, কোনো অবৈধ শ্রমিককে গ্রেপ্তার এবং আটক রাখার ক্ষেত্রে নীতিমালা মেনেই কাজ করছেন তাঁরা।
মুস্তাফার আলী বলেন, ‘আমরা প্রবাসী শ্রমিকদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তাঁরা আমাদের অর্থনীতিতে অবদান রেখেছেন। কিন্তু আমরা চাই সবাই আইন মেলে চলবে।’ সব অবৈধ শ্রমিককে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁরা যদি চাকরিতে পুনর্নিয়োগের যোগ্য না হন এবং ই-কার্ড নিবন্ধন না থাকে, তবে তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
এদিকে মালয় মেইল অনলাইন জানায়, গত বৃহস্পতিবার ৫৪ জন অবৈধ বিদেশি শ্রমিককে এক থেকে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। সাজাপ্রাপ্ত শ্রমিকেরা বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়া থেকে যাওয়া।
-'prothom alo online

মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোমে বাংলাদেশিরা তৃতীয় অবস্থানে

মালয়েশিয়ায় দ্বিতীয় নিবাস গড়ার কর্মসূচি মালয়েশিয়া মাই সেকেন্ড হোমে (এমএম২ এইচ) অংশগ্রহণের তালিকায় তৃতীয় শীর্ষ অবস্থানে বাংলাদেশিরা। এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৫৪৬ বাংলাদেশি মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম গড়েছেন। এই কর্মসূচির আওতায় ২০০২ সাল থেকে এই বছর পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় দ্বিতীয় বাড়ি বা সেকেন্ড হোম গড়ার অনুমতি পেয়েছেন ১২৬টি দেশের ৩৩ হাজার ৩০০ মানুষ। সূত্র: মালয়েশিয়ার নিউ স্ট্রেইটস টাইমস
যদিও এ জন্য বাংলাদেশ থেকে বৈধ উপায়ে কেউ টাকা নিয়ে যাননি। ফলে সেকেন্ড হোম গড়ার পুরো টাকাই হয়েছে পাচার। তবে এ জন্য কী পরিমাণ অর্থ মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা জানা যায়নি। তবে গড়ে ৮ লাখ টাকা ব্যয় ধরে হিসাব করলে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশিরা নিয়ে গেছেন প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এই টাকা কেবল সরকারকে দিতে হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানী কুয়ালালামপুরে এমএম২ এইচ নিয়ে জাতীয় কর্মশালায় দেশটির পর্যটন ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নাজরি আজিজ এ তথ্য জানিয়েছেন। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে চীন। দেশটির ৮ হাজার ৭১৪ ব্যক্তি মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম করেছেন। এরপরের অবস্থানে আছে জাপান (৪ হাজার ২২৫ জন)। তৃতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, প্রচলিত নিয়মে দেশ থেকে সেকেন্ড হোম করার জন্য অর্থ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দেশের অর্থ পাচারের ঘটনা তদন্ত করে থাকে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। তারা বলছে, গত বছর অর্থ পাচারের ৩২টি ঘটনা ধরা পড়েছে এ ইউনিটের তদন্তে, যার মধ্যে মালয়েশিয়ায় অর্থ পাচারের ঘটনাও আছে। বিচারের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠানো হয়েছে এসব প্রতিবেদন।
জানতে চাইলে বিএফআইইউর উপপ্রধান দেবপ্রসাদ দেবনাথ বলেন, ‘মালয়েশিয়ার কাছে তথ্য চাইলেই পাওয়া যায় না। কী কারণে, কার
 
সম্পর্কে তথ্য প্রয়োজন, বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে তথ্য চাইতে হয়। আমাদের জালে বেশ কিছু অর্থ পাচারের ঘটনা ধরা পড়ছে। দুদকে এসব পাঠানো হয়েছে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ এ নিয়ে প্রথম আলোকে বলেন, যারা মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম করেছে, সবাই টাকা পাচার করেছে। দেশ থেকে তো কেউ অনুমোদন নিয়ে সেখানে আবাস গড়েনি। এতেই প্রমাণিত হচ্ছে, দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো টাকা পাচার ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে।
ইব্রাহিম খালেদ আরও বলেন, কারা আবাস গড়ল, বাংলাদেশের হাইকমিশন তাদের তালিকা বের করতে পারে। এরপর দেশের সংস্থাগুলো তাদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনতে পারে। তাহলে পরবর্তী সময়ে টাকা পাচারের প্রবণতা কমে আসবে। বাংলাদেশ সরকারের এ সদিচ্ছা আছে বলে মনে হয় না। কারণ, যারা আবাস গড়েছে, সবাই প্রভাবশালী।
মালয়েশিয়ার পর্যটনমন্ত্রী নাজরি আজিজ বলেন, যুক্তরাজ্য থেকে ২ হাজার ৪১২ জন, ইরান থেকে ১ হাজার ৩৩৬ জন, সিঙ্গাপুর থেকে ১ হাজার ২৯৫ জন, তাইওয়ান থেকে ১ হাজার ২০৮ জন, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ১ হাজার ২৬৬ জন, পাকিস্তান থেকে ৯৭৩ জন এবং ভারত থেকে ৮৯০ জন এই কর্মসূচির সুবিধা নিয়েছেন। নাজরি বলেন, সেকেন্ড হোম কর্মসূচির সুবিধা থেকে স্থাবর সুবিধা ও রাজস্ব হিসেবে মোট ১ হাজার ২৮০ কোটি মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত জাতীয় অর্থনীতিতে যোগ হয়েছে।
পর্যটনমন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার প্রবেশের জন্য ভিসা দেওয়া বাবদ ৫ কোটি ২০ লাখ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত আয় হয়েছে। এ ছাড়া ফিক্সড ডিপোজিট (স্থায়ী আমানত) হয়েছে ৪৯০ কোটি রিঙ্গিত। গাড়ি কেনা বাবদ আয় ১৪ কোটি ৮০ লাখ রিঙ্গিত। স্থাবর সম্পত্তি কেনা বাবদ আয় ৪৯০ কোটি রিঙ্গিত। তিনি বলেন, এই সুবিধা নেওয়া ব্যক্তিদের মাসিক হাতখরচ প্রায় ১০ হাজার রিঙ্গিত করে। তবে বিভিন্ন দেশ থেকে তাদের কাছে বন্ধুদের বেড়াতে আসা, খাবারদাবার এবং কেনাকাটা এর মধ্যে হিসাব করা হয়নি।
২০০২ সালে এই কর্মসূচি চালুর পরের বছর অর্থাৎ ২০০৩ সাল থেকে এই কর্মসূচিতে আবেদন করেন বাংলাদেশিরা। প্রথম বছর ৩২ জন বাংলাদেশি ওই সুবিধা পান। মালয়েশিয়ার সাবেক হাইকমিশনার নরলিন ওথম্যান ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ওই সময় পর্যন্ত কর্মসূচির আওতায় ২ হাজার ৯২৩ জন বাংলাদেশি সেখানে দীর্ঘ মেয়াদে বসবাসের সুবিধা পেয়েছেন। শুধু ২০১৪ সালেই আবেদন করেন ২৮৫ জন। বাংলাদেশের কোনো রাজনীতিক এ সুবিধা নিয়েছেন কি না, প্রশ্ন করলে মুচকি হেসেছিলেন তিনি।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির (জিএফআই) তথ্যমতে, বাংলাদেশ থেকে ২০১৪ সালে প্রায় ৯১১ কোটি ডলার পাচার হয়েছে। টাকার অঙ্কে যা প্রায় ৭২ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা। আমদানি-রপ্তানির সময়ে পণ্যের প্রকৃত মূল্য গোপন করার মাধ্যমেই এই অর্থের বড় অংশ পাচার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
সুযোগ পাওয়ার আর্থিক যোগ্যতা ও ফি
এমএম২ এইচের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় দ্বিতীয় নিবাস কর্মসূচির আবেদন করার আগে ন্যূনতম কিছু আর্থিক শর্ত পূরণের বিধান রয়েছে। পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তিদের সাড়ে ৩ লাখ নগদ এবং দেড় লাখ মালয়েশীয় রিঙ্গিতের স্থায়ী আমানত থাকতে হবে। ওই বয়সের লোকজনের মাসিক আয় হতে হবে ১০ হাজার মালয়েশীয় রিঙ্গিত। ৫০ বছরের নিচে এই হার যথাক্রমে ৫ লাখ, ৩ লাখ ও ১০ হাজার মালয়েশীয় রিঙ্গিত। পঞ্চাশোর্ধ্ব সরকারি অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জন্য স্থায়ী আমানতের কোনো বিধান নেই। তবে এই শ্রেণির লোকজনের নগদ সাড়ে ৩ লাখ এবং মাসে ১০ হাজার মালয়েশীয় রিঙ্গিত আয় করতে হবে। পঞ্চাশোর্ধ্ব বা পঞ্চাশের নিচে যাঁদের ১০ লাখ মালয়েশীয় রিঙ্গিত সমমূল্যের বাড়ি থাকবে, তাঁদের ক্ষেত্রে কিছু ছাড় আছে। পঞ্চাশের নিচের বয়সীদের সাড়ে ৩ লাখ এবং স্থায়ী আমানত দেড় লাখ থাকলেই চলবে। তবে তাঁদের মাসিক আয় ১০ হাজার মালয়েশীয় রিঙ্গিত হতে হবে। আর পঞ্চাশোর্ধ্ব নগদ সাড়ে ৩ লাখ এবং ১ লাখ মালয়েশীয় রিঙ্গিত স্থায়ী আমানত থাকতে হবে। তাঁদের ক্ষেত্রে মাসিক আয় ১০ হাজার মালয়েশীয় রিঙ্গিত হতে হবে। তবে প্রার্থীর আবেদন প্রাথমিকভাবে অনুমোদনের নির্ধারিত সময়ের পর তাঁরা স্থায়ী আমানতের একাংশ তুলে নিতে পারবেন।
এই সুবিধা পেতে হলে একজন ব্যক্তিকে ৭ হাজার, স্বামী-স্ত্রীর জন্য সাড়ে ৭ হাজার এবং একটি পরিবারের জন্য ৮ হাজার মালয়েশীয় রিঙ্গিত ফি দিতে হয়। এখানে বলে রাখা ভালো, পরিবার বলতে স্বামী ও স্ত্রী ছাড়া তাঁদের দুজনের সন্তানকে নিয়ে একটি পরিবার বিবেচনা করা হয়। পরিবারের সদস্য এর চেয়ে বেশি হলে প্রতিটি সন্তানের জন্য বাড়তি আড়াই শ মালয়েশীয় রিঙ্গিত ফি দিতে হয়।

মালয়েশিয়ায় সাঁড়াশি অভিযান নিয়ে বৈঠক ১৭ জুলাই

মালয়েশিয়ায় সাঁড়াশি অভিযান সমাধানে আগামী ১৭ জুলাই ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছে হাইকমিশন। দেশটিতে বসবাসরত অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে বিপন্ন হয়ে পড়েছে কয়েক লাখ বাংলাদেশি।
দেশটিতে পুলিশের অভিযানে বাসা-বাড়িতে ঘুমাতে পারছেন না প্রবাসীরা। প্রকাশ্যে চলাফেরাও করতে পারছেন না তারা। রাত কাটাতে হচ্ছে বনে-জঙ্গলে। কম বেতনে কাজ করতে পারলেও এখন সেটাও আর হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়া থেকে অনেকেই ফোনে স্বজনদের কাছে জানাচ্ছেন তাদের বর্তমান অবস্থার কথা। নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে তারা।
এই সমস্যা সমাধানে সোমবার (১০ জুলাই) ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের কথা ছিল দূতাবাস কর্মকর্তাদের। আজ সকালেই ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, ১০ জুলাইয়ের পরিবর্তে আগামী সোমবার (১৭ জুলাই) ইমিগ্রেশন বিভাগের কর্মকর্তারা চলমান সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন- এমন তথ্য দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে।
১ জুলাই মধ্য রাত থেকে শুরু হওয়া দেশটির প্রত্যন্ত প্রদেশে ইমিগ্রেশন বিভাগের সাঁড়াশি অভিযানে দেড় হাজার বাংলাদেশিসহ প্রায় সাড়ে তিন হাজার অভিবাসীকে আটক করেছে পুলিশ। এমন পরিস্থিতির মধ্যে প্রবাসীরা ভিড় জমিয়েছেন দূতাবাসে।
সোমবার সরেজমিনে দেখা গেছে, মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে হাজার হাজার শ্রমিকের সমাগম। কেউ জানতে চাচ্ছেন সর্বশেষ পরিস্থিতি আবার কেউ এসেছেন নতুন পাসপোর্ট করতে। এদিকে দূতাবাসের কর্মকর্তারাও প্রবাসীদের সেবা প্রদানে সচেষ্ট।
অভিযানের সময় যারা নানা কারণে মালয়েশিয়ায় ঢোকার চেষ্টা করছেন তাদের সন্দেহ হলেই জেলে দেয়া হচ্ছে। বৈধ কাগজ থাকার পরও অনেক বাংলাদেশি জেল খেটে দেশে ফিরছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, মালয়েশিয়ায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের অবৈধ শ্রমিকদের বৈধতা নিশ্চিতের জন্য ই-কার্ড নিবন্ধনের মাধ্যমে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া নিবন্ধন গত ৩০ জুন পর্যন্ত সময় দিয়েছিল সে দেশের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। ওই অবৈধ শ্রমিকদের ৩০ জুনের মধ্যে ই-কার্ড নিবন্ধন করে কাজের অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে বলেছিল মালয়েশিয়া সরকার।

‘ভাগ্য’ নির্ধারণে বৈঠক আজ, সরকারকে পাশে চান মালয়েশিয়া প্রবাসীরা

মালয়েশিয়া সরকার একাধিকবার দেশটিতে অবৈধভাবে বসবাসরত শ্রমিকদের বৈধ হওয়ার সুযোগ দিলেও এখনো লাখ লাখ শ্রমিক বৈধ হতে পারেননি। এসব অবৈধ শ্রমিকদের বিরুদ্ধে এখন সাঁড়াশি অভিযান চালচ্ছে মালয়েশিয়া সরকার। তবে আটক অবৈধ শ্রমিকদের ভাগ্য নির্ধারণ হচ্ছে আজ সোমবার।
মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশের হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, দেশটিতে আজ সোমবার (১০ জুলাই) বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের আটক বিদেশি শ্রমিকদের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসছেন। ফলে দেশটিতে কর্মরত বিভিন্ন দেশের শ্রমিকদের ভাগ্যে আসলে কি ঘটতে পারে তা নির্ধারণ হতে পারে।
এদিকে, মালয়েশিয়ায় ধরপাকড় অভিযানে অসহায় হাজার হাজার বাংলাদেশিদের নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কমিউনিটি নেতারা। তারা বলছেন, বিপদগ্রস্থ বাংলাদেশিদের পাশে সবার আগে বাংলাদেশ সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে। দেশটিতে চলমান সঙ্কটে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে কারো বসে থাকার সুযোগ নেই।
দেশটিতে গত এক সপ্তাহের সহস্রাধিক বাংলাদেশি গ্রেফতার হয়েছেন এবং হাজার হাজার বাংলাদেশি যেকোনো মুহূর্তে গ্রেফতার আতঙ্কে রয়েছেন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যত দ্রুত সম্ভব সক্রিয় ভূমিকা রেখে বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশিদের দুর্দশা লাঘব এখনো সম্ভব বলে মনে তারা।
এ ছাড়া গ্রেফতার হওয়া বাংলাদেশিদের মুক্তি এবং কাগজপত্রহীন সকল বাংলাদেশিদের সহজ শর্তে বৈধ করে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কমিউনিটি নেতারা।
উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ায় অবৈধ বিদেশি শ্রমিকদের বৈধতা দিয়ে অস্থায়ীভাবে কাজের সুযোগ নিশ্চিত করতে এনফোর্সমেন্ট কার্ড (ই-কার্ড) দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল দেশটির সরকার। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে শেষ হয় গত ৩০ জুন। মালয়েশিয়ার অভিবাসন দফতরের তথ্য অনুযায়ী, অবৈধ বিদেশি শ্রমিকদের মাত্র ২৩ শতাংশ ওই কর্মসূচির সুযোগ নিয়েছে।
নিবন্ধনের সময়সীমা শেষে গত ১ জুলাই থেকে অবৈধ বিদেশি শ্রমিকদের ধরপাকড় শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। অভিযানে আটক হওয়া ২ হাজার ৩০৯ জনের মধ্যে অর্ধেকের বেশি বাংলাদেশি।
মালয়েশিয়ার বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন বিদেশি শ্রমিকদের অবৈধ হয়ে পড়া ও গ্রেফতারের জন্য নিয়োগকর্তাদের দায়ী করেছে। তাদের মতে, নিবন্ধনের ব্যাপারে এসব দায়িত্বজ্ঞানহীন নিয়োগকর্তা শ্রমিকদের বিভ্রান্ত করেছেন।
এদিকে বাংলাদেশের অনুরোধে মালয়েশিয়ার ‘রিহায়ারিং কর্মসূচি’ নামে চালু করা কর্মসূচি এ বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। বাংলাদেশের যেসব নাগরিক বৈধ প্রক্রিয়ায় বিমানবন্দর দিয়ে মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলেন, তারা বৈধতার ওই কর্মসূচির সুযোগ কাজে লাগাতে পারবেন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় এখন ২ লাখ ৮৭ হাজার বাংলাদেশি কাজ করছেন। অবশ্য বেসরকারি হিসাব অনুযায়ী এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
সংগ্রহীত- জাগো নিউজ২৪

ইমিগ্রেশন পুলিশের ভয়ে গহীন বন-জঙ্গলে প্রবাসী ভাইয়েরা (ভিডিও)


মালয়েশিয়ায় শ্রমিকদের রি-হায়ারিংয়ের মাধ্যমে বৈধ হওয়ার আহবান

মালয়েশিয়ায় অবৈধ বাংলাদেশি শ্রমিকদের রি-হায়ারিংয়ের মাধ্যমে বৈধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশনের শ্রম কাউন্সেলর মো. সায়েদুল ইসলাম।

সোমবার দুপুরে হাইকমিশনের হলরুমে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহবান জানান।

সায়েদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, শ্রমিকদের বৈধ হওয়ার সময়সীমা শেষ হয়নি। যারা এখনো বৈধ হতে পারেনি তারা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রি-হায়ারিং নিবন্ধনের মাধ্যমে বৈধ হতে পারবেন।

ই-কার্ড কিংবা অনলাইনের মাধ্যমে যেসব বাংলাদেশি শ্রমিক বৈধ হওয়ার সুযোগ নেননি তাদের আতংকিত না হয়ে দ্রুত রি-হায়ারিং সুযোগ কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন হাইকমিশনের এই কর্মকর্তা।

এছাড়া ই-কার্ড বা রি-হায়ারিং কর্মসূচিতে নিবন্ধিত বাংলাদেশিদের যাদের পাসপোর্ট নাই তাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে হাইকমিশন হতে পাসপোর্ট সংগ্রহ করে বৈধতার সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার অনুরোধ জানান তিনি।

উল্লেখ্য, অবৈধ শ্রমিকদের সাময়িক বৈধতা হিসেবে এনফোর্সমেন্ট কার্ড (ই-কার্ড) করার সুযোগ দিয়েছিল মালয়েশিয়া সরকার।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ই-কার্ড কর্মসূচি হয়। এরপর একলাখ ৬১ হাজার বিদেশী অভিবাসী ই-কার্ড সংগ্রহ করেন। এরমধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

গত ৩০ জুন ই-কার্ড কর্মসূচি শেষে হয়। যারা এ কর্মসূচিতে নিবন্ধিত হননি তাদের আটকের জন্য গত ১ জুলাই থেকে অভিযান শুরু করে মালয়েশীয় পুলিশ।

গত তিন দিনে ১০৪০ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫১৫ জন বাংলাদেশি রয়েছেন।

এদিকে ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালক দাতুক সেরি মুস্তাফার আলি বলেনে, বৈধ বিদেশী কর্মীদের ভয়ের কিছু নাই।

মালয়েশিয়ার মন্ত্রীপরিষদ ই-কার্ড এর সময়সীমা না বাড়ানোর সিদ্ধান্তে অটল।

মালয়েশিয়ার মন্ত্রিপরিষদ বিদেশী কর্মীদের জন্য ই-কার্ড রেজিস্ট্রেশনের সময়সীমা সম্প্রসারণ না করার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। নিয়োগকর্তাদের যারা তাদের অনথিভুক্ত কর্মীদের নিবন্ধন করার জন্য আরো সময় চেয়ে যে আবেদন করেছিলেন তার প্রেক্ষিতে মন্ত্রীপরিষদ এই সিদ্ধান্ত জানায়।
পরিবহন মন্ত্রী গতকাল সাপ্তাহিক ক্যাবিনেট মিটিং শেষে সাংবাদিকদের বলেন, "নিয়োগকর্তাদের যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে। সরকার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে দৃঢ়ভাবে অটল থাকবে।" তিনি বলেন "আটক সকল অবৈধ কর্মীকে বহিষ্কৃত এবং কালো তালিকাভুক্ত করা হবে।"
তিনি আরো বলেন, "বিদেশি শ্রমিকদের নিয়োগের জন্য কোম্পানিকে অবশ্যই নতুন শ্রমিক নেওয়া উচিত এবং তা আইনত করতে করতে হবে।"
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জনশক্তি সংকটের সমাধান করার জন্য একটি প্রক্রিয়া নিয়ে আসবে। 
ই-কার্ড অস্থায়ী ভাবে অবৈধ অভিবাসীদের নিবন্ধন করার একটি প্রক্রিয়া যা গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে চালু হয়েছিল এবং গত ৩০ জুন এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এবং এর পর থেকেই ইমেগ্রেশন ডিপার্টমেন্ট অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান শুরু করেন।
সূত্র: (মালয়েশিয়ান সংবাদপত্র) দ্য ষ্টার অনলাইন

ভিসা থাকা সত্ত্বেও কুয়ালালামপুর বিমানবন্দর থেকেই ফেরত পাঠানো হচ্ছে বাংলাদেশিদের

মালয়েশিয়া নিজ দেশের হাইকমিশনের ভিসাই গ্রহণ করছে না। এদিকে বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও শুধু সন্দেহের কারণে বাংলাদেশি পর্যটকদের ঢুকতে দিচ্ছে না দেশটি। বিমানবন্দরের ডিটেনশন সেন্টারে বেশ কিছুদিন আটক রাখার পর ফেরত পাঠানো হচ্ছে তাদের।
সম্প্রতি অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযান ঘিরে এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। ভ্রমণসহ নানা প্রয়োজনে যারাই মালয়েশিয়ায় ঢোকার চেষ্টা করছেন, সন্দেহ হলেই তাদের আটকে দেয়া হচ্ছে। ফলে বৈধ কাগজ থাকার পরও অনেক বাংলাদেশিকে জেল খেটে দেশে ফিরতে হচ্ছে। যদিও এ ব্যাপারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই দেশটিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুয়ালালামপুর থেকে ফেরত আসা এক যাত্রী বলেন, মালয়েশিয়ায় বিমানবন্দরে নামার পর পরই বাংলাদেশি যাত্রীদের আলাদা করে লাইনে দাড় করাচ্ছেন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা। নিজেদের খেয়ালখুশিমতো যাকে ইচ্ছে এন্ট্রি সিল না দিয়ে অফিসে ডেকে নেয়া হচ্ছে। এরপর জিজ্ঞাসাবাদের নামে দাড় করিয়ে রাখা হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
কাউকে আবার বসিয়ে রেখেই হয়রানি করা হচ্ছে। পছন্দ হলে এন্ট্রি সিল দেয়া হচ্ছে, নয়তো আটক করে বিমানবন্দরের ভেতরের ইমিগ্রেশন ক্যাম্পে (জেল) ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে। পরে ফিরতি টিকিটের দিন দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। এ ঘটনা এখন প্রায় প্রতিটি ফ্লাইটেই ঘটছে। ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে যারা ১০ দিনের ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়ে মালয়েশিয়া গেছেন, তাদের প্রায় ১০ দিনই জেল খাটতে হয়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ইউসুফ এ প্রসঙ্গে বলেন, ভিসাসহ বৈধ সব নথি থাকার পরও কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন থেকে বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর প্রবণতা বাড়ছে। এমনও হয়েছে, কোনো কোনো ফ্লাইটের ৭০ শতাংশ যাত্রীকেই ফেরত পাঠানো হয়েছে।
যাদের অনেককেই কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ক্যাম্পে (হাজতে) কয়েক দিন বন্দি থাকতে হয়েছে। আবার ইমিগ্রেশন পার হতে না পারা যাত্রীরা দেশে এসে তাদের লাগেজও পাচ্ছেন না। বিমানবন্দর ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে প্রতিনিয়তই এ ধরনের অভিযোগ আসছে বলে জানান তিনি।

সন্দেহ হলেই আটক, আতঙ্কে কয়েক লাখ অভিবাসী

মালয়েশিয়ায় থামছে না সাঁড়াশি অভিযান। সন্দেহ হলেই জেলে দিচ্ছে মালয়েশিয়ান ইমিগ্রেশন। এমন পরিস্থিতিতে কয়েক লাখ অবৈধ অভিবাসীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। আত্মগোপনে থেকেও রেহাই পাচ্ছেন না। বাসা-বাড়ি, শপিংমল, কারখানা, কনস্ট্রাকশন সাইড ও রাস্তা-ঘাটে সর্বত্র চলছে সাঁড়াশি অভিযান।


গত ১ জুলাই মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া অভিযানে সাড়ে ৭০০ বাংলাদেশিসহ আড়াই হাজার অভিবাসীকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (৩ জুলাই) সকালে রাজধানীর মেইড ভেলির শপিং মলের ফুডকোডে আড়াই ঘণ্টার অভিযানে ৮০ বাংলাদেশিসহ ১৩৫ অবৈধ শ্রমিককে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার সকাল থেকে কুয়ালালামপুরের জালান ইপু, মোতিয়ারা কমপ্লেক্স, চেকিট এলাকায় অভিযান চালিয়েছে। তবে কতজন আটক হয়েছে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তা জানা যায়নি।

এমন পরিস্থিতির মধ্যে প্রবাসীরা ভিড় জমিয়েছেন দূতাবাসে। বুধবার সরেজমিনে দেখা গেছে, বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রচুর শ্রমিকের সমাগম। কেউ কেউ জানতে চাচ্ছেন সর্বশেষ পরিস্থিতি আবার কেউ কেউ এসেছেন নতুন পাসপোর্র্ট করতে। দূতাবাসের কর্মকর্তারাও প্রবাসীদের সেবাদানে সচেষ্ট।

এদিকে অভিযানের সময় যারা নানা কারণে মালয়েশিয়ায় ঢোকার চেষ্টা করছেন তাদের সন্দেহ হলেই জেলে দেয়া হচ্ছে। বৈধ কাগজ থাকার পরও অনেক বাংলাদেশি জেল খেটে দেশে ফিরে এসেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।


প্রসঙ্গত, মালয়েশিয়ায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের অবৈধ শ্রমিকদের বৈধতা নিশ্চিতের জন্য ই-কার্ড নিবন্ধনের মাধ্যমে গত ৩০ জুন পর্যন্ত সময় দিয়েছিল দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। তবে আপাত ব্যবস্থা হিসেবে ওই অবৈধ শ্রমিকদের ৩০ জুনের মধ্যে ই-কার্ড নিবন্ধন করে কাজের অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে বলেছিল মালয়েশিয়া সরকার।

নিবন্ধনের সময়সীমা পার হওয়ায় কয়েক লাখ শ্রমিকের মাঝে বিরাজ করছে আতঙ্ক। এরমধ্যে বাংলাদেশি শ্রমিকের সংখ্যা বেশি। এ সংখ্যা তিন লাখের বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ জন্য নিয়োগদাতাদের দুষছে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ এবং শ্রমিকরা।
সংগ্রহীত- জাগো নিউজ

তিন দিনে সাড়ে সাত শ বাংলাদেশি আটক

মালয়েশিয়ায় অবৈধ বিদেশি শ্রমিকদের ধরতে কর্তৃপক্ষের অভিযান অব্যাহত আছে। গতকাল সোমবার সকাল পর্যন্ত দেড় হাজারের বেশি বিদেশি শ্রমিককে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৫২ জন বাংলাদেশি রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ।
মালয়েশিয়ায় শ্রম অধিকার নিয়ে কাজ করেন বাংলাদেশি নাগরিক মো. হারুন অর রশিদ। গতকাল তিনি মালয়েশিয়া থেকে টেলিফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ৩০ জুন রাতের পর অভিযান শুরু হয়েছে। তিন দিন সারা দেশের অলিগলি, প্রতিটি শহর ও গ্রামে একযোগে অভিযান চালাচ্ছে সরকার।
হারুন অর রশিদ আরও বলেন, অবৈধ নাগরিকদের সাময়িকভাবে বৈধ হওয়ার জন্য ৩০ জুন পর্যন্ত সময় দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু অনেক বাংলাদেশি শ্রমিক সেই সুযোগটি গ্রহণ করেননি। ফলে তাঁদের জন্য সমস্যা হয়েছে। বৈধ হওয়ার সুযোগ না নেওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, এর পেছনে শ্রমিকেরা যেসব স্থানে চাকরি করছেন, সেখানকার মালিকেরা অনেকাংশ দায়ী। এর পাশাপাশি দালালেরা হয়তো অবৈধ এসব শ্রমিককে বৈধ করার কাজটি যথাযথভাবে করেনি। তা ছাড়া শ্রমিকেরা হয়তো বিষয়টি বুঝতে পারেননি তাঁদের জন্য কী পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে।
মালয়েশিয়ার নিউ স্ট্রেইটস টাইমস পত্রিকার খবরে জানানো হয়, গতকাল সকাল পর্যন্ত ১ হাজার ৫০৯ জন অবৈধ বিদেশি শ্রমিক ও ২৮ জন চাকরিদাতাকে আটক করে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক মুস্তাফার আলী এক বিবৃতিতে বলেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যা ৭৫২ জন। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়ার ১৯৫ জন, মিয়ানমারের ১১৭ জন, ফিলিপাইনের ৫০ জন এবং থাইল্যান্ডের ৪৫ জন নাগরিকও আটক হয়েছেন। আটক বাকি ৩৫০ জন অন্যান্য দেশের নাগরিক। তিনি জানান, অভিযানের দুই দিনে ৫ হাজার ২৭৮ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়েছে।
এ অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১ হাজার ৩১৪ জন পুরুষ, ১৯২ জন নারী ও তিন শিশু রয়েছে বলেও জানান মুস্তাফার আলী। গত দুদিনে দেশজুড়ে ১৮১টি জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর আগে কালো তালিকাভুক্ত করা বা নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানো ব্যক্তিরা অবৈধ পথে মালয়েশিয়ায় ঢুকে এনফোর্সমেন্ট কার্ড বা ই-কার্ডের জন্য নিবন্ধনের চেষ্টা করেছেন বলেও তাঁর বিভাগ শনাক্ত করেছে। আঙুলের ছাপ পরীক্ষা করতে গিয়ে বিষয়টি ধরা পড়েছে। এসব ঘটনায় ৩৮ জন বিদেশি শ্রমিককে আটক করা হয়েছে।
ই-কার্ড কর্মসূচির মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না জানিয়ে মুস্তাফার আলী বলেন, অভিবাসন আইন অনুযায়ী বৈধ কাগজপত্র না থাকায় আটক হওয়া শ্রমিকেরা জনপ্রতি ১০ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা ও সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। আর আটক চাকরিদাতাদের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের মানব পাচার ও ২০০৭ সালে প্রণীত শ্রম পাচার আইনে মামলা হতে পারে।
এর আগে অভিযানের প্রথম দিন গত শনিবার মুস্তাফার আলী এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, নানা কারণে অনেক বিদেশি শ্রমিক ই-কার্ডের জন্য আবেদন করেননি। এর মধ্যে অনেকে আবেদনের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময়সীমা সম্পর্কে জানতেন না। আবার অনেকের চাকরিদাতা বলেছেন, আবেদনের সময়সীমা বাড়ানো হবে। মুস্তাফার বলেন, আবেদনের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছে। নতুন করে আর সময়সীমা বাড়ানো হবে না।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, দেশটিতে প্রায় ৬ লাখ অবৈধ বিদেশি শ্রমিক অবস্থান করছেন। এ পর্যন্ত আবেদন করেছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ৫৬ জন, অর্থাৎ মাত্র ২৩ শতাংশ।
এদিকে সিঙ্গাপুরের ইংরেজি ভাষার সংবাদপত্র স্ট্রেইটস টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, মালয়েশিয়ায় দেশজুড়ে ওই অভিযানের কারণে আতঙ্কে অনেক শ্রমিক আত্মগোপনে চলে গেছেন। তাঁদের মধ্যে অনেক বৈধ শ্রমিকও রয়েছেন। চাকরিদাতারা এখন আশঙ্কা করছেন, আত্মগোপনে যাওয়া এসব শ্রমিক হয়তো অভিযান চলা অবস্থায় আর কাজে ফিরবেন না। এতে সবচেয়ে বেকায়দায় পড়েছে মালয়েশিয়ার নির্মাণশিল্প। এ ছাড়া ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোও সংকটে পড়েছে।
এই বিপুলসংখ্যক বিদেশি শ্রমিক নিবন্ধিত না হওয়ার কারণ হিসেবে মাস্টার বিল্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন মালয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট ফো চেক লি বলেন, অনেক শ্রমিকই এজেন্সির মাধ্যমে আসেন। ফলে তাঁদের নিবন্ধন করানো কঠিন। কারণ, তাঁদের সরবরাহ করা এজেন্সির অনেকগুলোই নির্মাণশিল্প উন্নয়ন বোর্ডের (সিআইডিবি) অধীনে নিবন্ধনকৃত নয়।
তবে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক মোস্তফার আলী এক খুদে বার্তায় দেশটির ইংরেজি ভাষার সংবাদপত্র দ্য স্টারকে বলেন, বৈধ শ্রমিকদের ভয়ের কোনো কারণ নেই।
সংগ্রহ- প্রথম আলো অনলাইন

মালয়েশিয়ায় অভিযানে ৫১৫ বাংলাদেশি আটক

২রা জুলাই,১৭।(দুপুর ১২:১৮)  মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন দপ্তরের মহাপরিচালক মুস্তাফার আলীর বরাত দিয়ে মালয়েশিয়া স্টার জানিয়েছে দেশটির ১৫৫টি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোট এক হাজার ৩৫ জনকে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।  

আটকদের মধ্যে ৫১৫ জন বাংলাদেশি, ১৩৫ জন ইন্দেনেশীয়, ১০২ জন ফিলিপিনো, ৫০ জন থাই ও দুজন ভিয়েতনামি নাগরিক রয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ বলছে, এদের কাছে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের দেওয়া এনফোর্সমেন্ট কার্ড (ই-কার্ড) বা সাময়িক অবস্থানের অনুমতিপত্র পাওয়া যায়নি।
আটকদের মধ্যে ১০১ জন নারী ও তিনটি শিশুও রয়েছে বলে মালয়েশীয় ইমিগ্রেশন বিভাগের তথ্য।  
মুস্তাফার আলী জানান, নিয়ম ভেঙে অবৈধ অভিবাসীদের কাজে রাখায় ১৬ জন চাকরিদাতাকেও তারা আটক করেছেন।
মহাপরিচালককে উদ্ধৃত করে মালয়েশিয়ার সান ডেইলি লিখেছে, আটকরা ই-কার্ডের জন্য আবেদন না করার বিভিন্ন রকম কারণ দেখিয়েছেন। কেউ কেউ বলেছেন, তারা আবেদনের সময়সীমা জানতেন না। আবার কেউ বলেছেন, ওই সময়সীমা বাড়ানো হবে বলে চাকরিদাতারা তাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন।   
মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বৈধ কাগজপত্রহীন শ্রমিকদের বৈধভাবে পুনঃনিয়োগের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত চার মাস ধরে ই-কার্ডের আবেদন নেওয়া হয়, যার সময় শেষ হয় ৩০ জুন।  
ইমিগ্রেশন দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২৬ হাজার ৯৫৭টি কোম্পানির মোট একলাখ ৫৫ হাজার ৬৮০ জন কর্মী ই-কার্ডের আবেদন করেন, যারা ১৫টি দেশের নাগরিক।
আবেদনকারীর মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যা ৭১ হাজার ৯০৩; এর পরেই রয়েছে ইন্দোনেশিয়া (২৬ হাজার ৭৬৪) ও মিয়ানমারের (১১ হাজার ৮২৫) নাগরিকরা।
বাংলাদেশ হাই কমিশনের শ্রম কাউন্সিলর সায়েদুল ইসলাম জানান, এই ই-কার্ডের মেয়াদ আগামী বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
অর্থাৎ, যাদের কাছে বৈধ পাসপোর্ট বা কাজের অনুমতি নেই, ওই ই-কার্ড হাতে থাকলে তারা ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় থেকে কাজ করতে পারবেন।
ওই সময়ের মধ্যে তাদের নিজ নিজ দূতাবাস থেকে পাসপোর্ট ও ট্র্যাভেল ডকুমেন্ট সংগ্রহ করে নতুন করে ওয়ার্ক পারমিট নিতে হবে।
তা না হলে নির্ধারিত সময়ের পর তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে হুঁশিয়ার করেছে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ।    
সান ডেইলি লিখেছে, মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা ছয় লাখের বেশি। সেই হিসেবে অবৈধ শ্রমিকদের মাত্র ২৩ শতাংশ ই-কার্ড সংগ্রহ করেছে।

মালয়েশিয়ায় ৩২৯ বাংলাদেশি আটক

২রা জুলাই,১৭: মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীবিরোধী অভিযানে ৩২৯ বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে। বাংলাদেশি ছাড়াও  দেশটিতে অভিযান চালিয়ে মোট ৭৫২ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক মুস্তাফার আলী স্থানীয় গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অবৈধ শ্রমিকের নিবন্ধনের জন্য ই-কার্ড (এনফোর্সমেন্ট কার্ড) গ্রহণে বেঁধে দেওয়া মেয়াদ শেষ হওয়ার পর শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শনিবার বিকেল পর্যন্ত অভিযানে এই অভিবাসীদের আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন মায়ানমার, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও ভারতেরও নাগরিক।
মালয় উপদ্বীপের বৃহত্তম রাজ্য জোহরের রাজধানী জোহর বাহরু, মালাক্কা প্রণালী পাড়ের শহর ক্লাং, কেদাহ রাজ্যের রাজধানী আলোর সেতার, কোটা বাহরু, প্রথম শহর মালাক্কা, পেরাক রাজ্যের রাজধানী ইপোহ, কুয়ালা তেরেঙ্গনু, পাহাংয়ের রাজধানী কুয়ানটান, সেরেমবান ও পেনাং রাজ্যের শহর জর্জটাউন এবং বোর্নিও দ্বীপের সারাবাক রাজ্যের রাজধানী কুচিং ও পূর্বাঞ্চলের সাবাহ রাজ্যের রাজধানী কোটা কিনাবালুসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
বাংলাদেশি আটক হয়েছেন জোহর বাহরু থেকে ১৭৫, আলোর সেতার থেকে ৫, কোটা বাহরু ১৩২, মালাক্কা থেকে ১১, ইপোহ থেকে ১, কুয়ান্টান থেকে ৪, সেম্বারান থেকে ১ জন।
অভিবাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, দেশটিতে প্রায় ৬ লাখ অবৈধ শ্রমিক অবস্থান করছেন। এদের বৈধভাবে অবস্থানে ৩০ জুন রাত ৮টা পর্যন্ত ই-কার্ড সংগ্রহের নির্দেশনা দেওয়া হলেও সর্বমোট ১ লাখ ৫৫ হাজার ৬৮০ জন শ্রমিক ই-কার্ডের জন্য আবেদন করেন, যার হার ২৩ শতাংশ। এরমধ্যে সরবরাহ করা হয় ১ লাখ ৪০ হাজার ৭৪৬টি কার্ড। হিসাব অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে ৪ লাখ শ্রমিকই অবৈধভাবে অবস্থান করছেন এশিয়ার উন্নত দেশটিতে।

মালয়েশিয়ায় বৈধ হতে বাংলাদেশিদের সর্বাধিক আবেদন

মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে অবস্থানরত শ্রমিকদের বৈধ হতে সরকারের দেওয়া সাড়ে চার মাসের সময়সীমার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবেদন করেছেন বাংলাদেশিরা।
শুক্রবার মধ্যরাতের পর থেকেই অবৈধদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক মুস্তাফার আলী।
কুয়ালালামপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ই-কার্ড নেওয়ার সময়সীমা আর বাড়ানো হবে না। সময়সীমা শেষ হওয়ার সাথে সাথে অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেপ্তার অভিযান শুরু হবে; তাদের নিয়োগদাতাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এনফোর্সমেন্ট কার্ড (ই-কার্ড) বা সাময়িক কাজের অনুমতিপত্র পেতে যে ১৫টি দেশের নাগরিকরা আবেদন করেছেন, তার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ।
২৬ হাজার ৯৫৭টি কম্পানির মোট এক লাখ ৫৫ হাজার ৬৮০ জন অবৈধ প্রবাসী আবেদনকারীর মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যা ৭১ হাজার ৯০৩; এর পরই রয়েছে ইন্দোনেশিয়া (২৬ হাজার ৭৬৪) ও মিয়ানমারের (১১ হাজার ৮২৫) নাগরিকরা।

সাঁড়াশি অভিযানে মালয়েশিয়ায় সহস্রাধিক শ্রমিক আটক

ই-কার্ড প্রোগ্রাম নিবন্ধনের সময় পেরিয়ে যাওয়ায় অবৈধ হিসেবে থাকা বিদেশি শ্রমিকদের আটকে মালয়েশিয়ায় সাঁড়াশি অভিযান বেশ জোরেশোরে চলছে।


গত ৩০ জুন মাঝরাত থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৪০ জন অবৈধ বিদেশি শ্রমিককে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন পুলিশ। পাশাপাশি ১৭ জন মালিককে আটক করা হয়েছে।
তবে এদের মধ্যে কতজন বাংলাদেশি শ্রমিক আছেন তা নির্দিষ্ট করে জানা সম্ভব হয়নি।
মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন প্রধানের ঘোষণা অনুযায়ী, গত শুক্রবার রাত থেকে রাজধানী কুয়ালালামপুর, পেরাক, জোহর বারু, কোতা বারু, কেলান্তান, কেদাহ, আলোর সেতার, মালাকাসহ দেশেটির প্রত্যন্ত প্রদেশে অভিযান চালিয়ে এসব শ্রমিকদের আটক করা হয়।


এদিকে, রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে কুয়ালালামপুরের জালান তুন রাজ্জাক এলাকায় ইমিগ্রেশন পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে।
এ সাঁড়াশি অভিযানের ফলে বৈধ-অবৈধ বিদেশি শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই অভিযানের ভয়ে জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির বিভিন্ন কমিউনিটির নেতারা।
এদিকে, দ্য মাস্টার বিল্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন মালয়েশিয়া (এমবিএএম) কর্তৃপক্ষ দেশটির সরকারের কাছে ই-কার্ড করার জন্য আগামী বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছে।
এমবিএএম জানিয়েছে, বিদ্যমান সমস্যার সমাধান এবং ধীরগতি প্রক্রিয়া থেকে বের হয়ে সহজে ও দ্রুত ই-কার্ড করতে ইমিগ্রেশন বিভাগকে সহায়তা দেবে তারা।
চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় মালয়েশিয়ায় বসবাসরত অবৈধ বিদেশি শ্রমিকদের বৈধকরণ ই-কার্ড প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ার মেয়াদ ৩০ জুন শেষ হওয়ার পর বিদ্যমান অবৈধ শ্রমিক ধরতে দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়।