গত বছরের ডিসেম্বর মাসে শেষ হয়ে যাও রি-হাইয়ারিং বা বৈধ করণ প্রক্রিয়া শেষ হলেও গুঞ্জন ছিলো যে আবারও বৈধ করণ প্রক্রিয়া শুরু হবে ৷ বিশেষ করে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে গুঞ্জন ছিলো জানুয়ারী মাসেই এ সুযোগ আসতে পারে ৷ এ দিকে অবৈধ বিদেশী কর্মীদের ভাগ্যে কি থাকছে সে বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে মালয়েশিয়া সরকার ৷
১২ ডিসেম্বর বুধবার দেশটির স্বরাষ্ট্রপ্রতি মন্ত্রী দাতুক মোহাম্মদ আজিজ যামান জানিয়েছেন আর কোন বৈধ করণ প্রক্রিয়ায় যাবে না মালয়েশিয়া ৷ তিনি বলেছেন, ‘‘ঘন ঘন বৈধ করণ প্রক্রিয়া দেশের জন্য নেতিবাচক সংস্কৃতি হতে পারে ৷ অভিবাসী কর্মীরা মালয়েশিয়ার আইনকে হালকাভাবে নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে বেশি অর্থোপার্জনের জন্য অবৈধ হয়ে যায় ৷”
প্রতিমন্ত্রী বলেছেন-
‘‘এই জন্যই অভিবাসন দপ্তর কঠোর অভিযান পরিচালনা করেছে কারণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবৈধ বিদেশীদের একটি পরিষ্কার বার্তা দিতে চেয়েছিল যে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিতে কোন আপোষ করা হবে না ৷,,
এ বিষয়ে আরো মন্তব্য করে মোহাম্মদ আজিজ বলেন, অবৈধ অভিবাসী সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে ৷ এ ছাড়াও আজিজ জানিয়েছেন, নতুন বিদেশী নিয়োগের জন্য নীতিমালা সংশোধন ও সুসংহত করার লক্ষ্যে মানব সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাথে তার মন্ত্রণালয় কাজ করছে ৷
”ইনশাআল্লাহ, আমরা খুব শীঘ্রই নতুন বিদেশী কর্মী নিয়োগের জন্য নতুন প্রক্রিয়া, লেভি পেমেন্ট এবং নতুন শর্ত ঘোষণা করব” বলেও জানান তিনি।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা
মালয়েশিয়ায় এক বাংলাদেশি শ্রমিককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার নাম মোঃ জামাল মিয়া (২৮)।তিনি কুমিল্লা সদর থানার মদিনানগর এলাকার মোঃ জলিল মিয়ার ছেলে। জামালের স্ত্রী ও তিন সন্তান রয়েছে।
একাধিক সুত্রে জানা গেছে, সোমবার (৩ ডিসেম্বর) মালয়েশিয়ার সানওয়ে মেনতারি এলাকা থেকে পুলিশ জামালকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে ইউনিভার্সিটি মালায় হাসপাতালে ভর্তি করায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (৪ ডিসেম্বর) জামাল মৃত্যু বরণ করে।
নিহত জামাল মালয়েশিয়ায় ৯ বছর ধরে অবস্থান করছিলেন। তিনি স্থানীয় গ্লোভটনিক্স ইলেকট্রনিক্স নামে একটি ফ্যাক্টরীতে কাজ করতেন।
নিহত জামালের শ্যালক মালয়েশিয়া প্রবাসী মোঃ লিটন মিয়া এ প্রতিবেদককে জানান, জামাল মিয়া গত সোমবার সকাল ৭ টায় কাজের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়ে সানওয়ে মেনতারি কোর্ট এলাকায় গেলে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা মালয়েশিয়ান ৪ জন যুবক ও ১ মেয়ে তাকে হকিষ্টিক দিয়ে বেদম পেটাতে থাকে এবং ঘটনাটি স্থানীয় সিকিউরিটি ও লোকজনের সামনে ঘটলেও তাকে বাচাঁতে কেউ এগিয়ে আসেনি। ১ ঘন্টা পর পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।
এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়েছে কিনা জানতে চাইলে জামালের শ্যালক লিটন জানান, ৫ ডিসেম্বর (আজ) বুধবার তার ময়না তদন্ত হওয়ার কথা রয়েছে। তদন্তের পর থানায় (বালাই) একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হবে।
ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হলে তার লাশ কয়েক দিনের মধ্যেই দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান লিটন।
কি কারণে তাকে নির্মমভাবে পিটিয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানির সুপারভাইজার লক্ষীপুর জেলার মোঃ মুসলেহ হোসেন বলেন, জামাল আমার অধীনেই কাজ করত। ঘটনার খবর পেয়ে আমি হাসপাতালে তাকে দেখতে গিয়েছিলাম তখন তার জ্ঞান ছিল। তার কাছে হামলার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে সে আমাকে জানায় এই হামলার আগে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র তাকে একটি মেয়ে দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে। পরে তার কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করে। তাদের চাহিদামত টাকা দিতে না পারায় পূর্বপরিকল্পিতভাবেই তার ওপর এই নির্মম নির্যাতন চালানো হয়।
এ ঘটনায় মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে যোগাযোগ করা হলে শ্রম কাউন্সিলর মো: সায়েদুল ইসলাম বলেন, এমন ঘটনায় কারা কারা জড়িত। কেনইবা তাকে হত্যা করা হয়েছে তা খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।